মডেল: বর্তমান বিভাগ
পাঠ্য বিষয় প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা সত্য উপাস্য মহান আল্লাহর অংশীদার স্থাপন করা
অন্য একজন ছাত্রকে গণনা করুন। এই পাঠ্য বিষয়টি সম্পূর্ণ করুন
প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা সত্য উপাস্য মহান আল্লাহর শরীক বা অংশীদার স্থাপন করার অর্থ
প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টিকর্তা সত্য উপাস্য মহান আল্লাহর শরীক বা অংশীদার স্থাপন করার কতকগুলি উদাহরণ:
প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা সত্য উপাস্য মহান আল্লাহর অংশীদার স্থাপন করার ভয়াবহতা
প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা সত্য উপাস্য মহান আল্লাহর অংশীদার স্থাপন সমস্ত প্রকারের ইপাসনা ও সৎ কর্মকে বিফল ও বাতিল করে । তাই মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের মধ্যে বলেছেন: (وَلَوْ أَشْرَكُوْا لَحَبِطَ عَنْهُم مَّا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ)، سورة الأنعام، جزء من الآية 88. ভাবার্থের অনুবাদ: “তারা যদি আল্লাহর অংশীদার স্থাপন করতো, তাহলে তাদের সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে যেতো”। (সূরা আল আনআম, আয়াত নং 88 এর অংশবিশেষ)।
যে ব্যক্তি আল্লাহর অংশীদার স্থাপন করার পর তওবা না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে ব্যক্তি জাহান্নামে বা নরকে যাবে। জান্নাত বা স্বর্গ তার জন্য হারাম করা হয়েছে। তাই মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের মধ্যে বলেছেন: (إِنَّهُ مَن يُّشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ)، سورة المائدة، جزء من الآية 72. ভাবার্থের অনুবাদ: “আসলে যে ব্যক্তি আল্লাহর অংশীদার স্থাপন করবে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত বা স্বর্গ নিষিদ্ধ করে দিবেন। জাহান্নাম বা নরক হবে তার বাসস্থান”। (সূরা আল মায়িদা, আয়াত নং ৭২ এর অংশবিশেষ)।
শির্ক হলো কয়েক প্রকার
প্রথম প্রকার বড়ো শির্ক হলো এই যে, কোনো ব্যক্তি কোনো উপাসনা বা ইবাদত মহান আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো বস্তু বা ব্যক্তির জন্য সম্পাদন করবে। সুতরাং মহান আল্লাহ যে সকল উপাসনা বা ইবাদত ও কথা এবং কাজকে ভালবাসেন, সে সকল উপাসনা বা ইবাদত ও কথা এবং কাজকে অন্য কোনো বস্তু বা ব্যক্তির জন্য সম্পাদন করাই হলো শির্ক ও কুফুর অথবা আল্লাহকে বা তাঁর শিক্ষাকে প্রত্যাখ্যান করা। বড়ো শির্কের দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যেতে পারে যে, মহান আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো বস্তু বা ব্যক্তির নিকটে আরোগ্য লাভ করার জন্য প্রার্থনা করা বা জীবিকায় অথবা জীবিকানির্বাহে প্রশস্ততা চাওয়া। তদ্রূপ মহান আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো বস্তু বা ব্যক্তির উপরে ভরসা রাখা এবং সেই রূপ মহান আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো বস্তু বা ব্যক্তির জন্য নামাজ পড়া বা জবাই করা ইত্যাদি।
মহান আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো বস্তু বা ব্যক্তির কাছে এইভাবে প্রার্থনা বা দোয়া করা এবং এই ধরণের কর্ম ইত্যাদি সম্পাদন করাই হলো শির্ক ও কুফুর অথবা আল্লাহকে বা তাঁর শিক্ষাকে প্রত্যাখ্যান করা। যেহেতু আরোগ্য করা, জীবিকা অথবা জীবিকানির্বাহকে প্রশস্ত করা মহান আল্লাহর তাওহীদুর রুবুবিয়া বা মহান আল্লাহর প্রভুত্বের ও প্রকৃত প্রতিপালক হওয়ার বৈশিষ্ট্য এবং মহান আল্লাহর উপর ভরসা রাখা এবং তাঁর জন্য নামাজ পড়া ও জবাই করা হলো মহান আল্লাহর একমাত্র সত্য উপাস্য হওয়া বা তাঁর উলুহিয়াতের বা তাঁর একমাত্র সত্য উপাস্য হওয়া অথবা তাঁর উলুহিয়াতের বৈশিষ্ট্য।
২। দ্বিতীয় প্রকার ছোট শির্ক
ছোট শির্কের কতকগুলি দৃষ্টান্ত
মানুষের কাছে কিছু জিজ্ঞাসা করা বা তার কাছে কিছু চাওয়া কী শির্ক হবে?
জড় ও অচেতন পদার্থের কাছে অথবা মৃত ব্যক্তির কাছে কিছু সাহায্য চাওয়া বা সহায়তা প্রার্থনা করা হলো প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা সত্য উপাস্য মহান আল্লাহর অংশীদার স্থাপন করা। আর এই আচরণটি হলো বুব্ধি, প্রকৃত ইসলাম ধর্ম এবং প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা সত্য উপাস্য মহান আল্লাহর প্রতি সঠিক ইমান বা বিশ্বাস স্থাপনের বিপরীত ও পরিপন্থী কর্ম। কেননা জড় ও অচেতন পদার্থ এবং মৃত ব্যক্তির কাছে সাহায্য চাওয়া বা সহায়তা প্রার্থনা করার বিষয়টি তারা শ্রবণ করার ক্ষমতা রাখে না এবং সাহায্য বা সহায়তা করারও ক্ষমতা রাখে না। যেহেতু সাহায্য চাওয়া বা সহায়তা প্রার্থনা করার বিষয়টি হলো আসলে একটি উপাসনা বা ইবাদত। আর যে কোনো উপাসনা বা ইবাদত হলো প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা সত্য উপাস্য মহান আল্লাহর প্রকৃত প্রাপ্য। তাই কোনো উপাসনা বা ইবাদত প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা সত্য উপাস্য মহান আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো বস্তু বা ব্যক্তির জন্য সম্পাদন করাই হলো শির্ক ও কুফুর অথবা আল্লাহকে বা তাঁর শিক্ষাকে প্রত্যাখ্যান করা। বিশ্বনাবী মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যখন মহান আল্লাহর বার্তাবহ রাসূল হিসেবে আগমন করেনে, তখন আরব জাতির মধ্যে জড় ও অচেতন পদার্থের কাছে অথবা মৃত ব্যক্তির কাছে সাহায্য চাওয়া বা সহায়তা প্রার্থনা করার শির্ক বিরাজমান ছিলো।