মডেল: বর্তমান বিভাগ
পাঠ্য বিষয় শিরোনাম: পবিত্র কুরআনের মর্যাদা
অন্য একজন ছাত্রকে গণনা করুন। এই পাঠ্য বিষয়টি সম্পূর্ণ করুন
প্রকৃত ইসলাম ধর্মে পবিত্র কুরআনের মহা মর্যাদা ও মহত্ত্ব রয়েছে। আর যে সমস্ত বিষয়ের দ্বারা পবিত্র কুরআনের মহা মর্যাদা ও মহত্ত্ব বিকশিত হয়, সে সমস্ত বিষয়ের মধ্যে রয়েছে:
عَـنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، عَـنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "خَـيْرُكُـمْ مَـنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ". (صحيح البخاري، رقم الحديث 5027). অর্থ: ওসমান [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। আল্লাহর বার্তাবহ রাসূল বিশ্বনাবী মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি হলো সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, যে ব্যক্তি নিজে পবিত্র কুরআনের জ্ঞান লাভ করে এবং সেই জ্ঞান প্রচার করে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫০২৭]।
অর্থ: আনাস বিন মালিক [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “মানব জাতির মধ্যে কতকগুলি এমন মানুষ আছেন যে, তারা প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা সত্য উপাস্য মহান আল্লাহর প্রিয়জন ও তাঁর নৈকট্য লাভকারী সৌভাগ্যবান মানুষ”। সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর বার্তাবহ রাসূল বিশ্বনাবী মুহাম্মাদ! তাদের বৈশিষ্ট্য কী? আল্লাহর বার্তাবহ রাসূল বিশ্বনাবী মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন: “তারা হলেন পবিত্র কুরআনের হাফিজগণ ও তার সংরক্ষণকারীগণ এবং প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা সত্য উপাস্য মহান আল্লাহর প্রিয়জন ও তাঁর নৈকট্য লাভকারী সৌভাগ্যবান মানুষ”। [সুনান ইবনু মাজাহ, হাদীস নং ২১৫, আল্লামা নাসেরুদ্দিন আল আলবাণী হাদীসটিকে সহীহ (সঠিক) বলেছেন]।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ, يَقُوْلُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ؛ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ، وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، لَا أَقُوْلُ الم حَرْفٌ، وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ، وَلَامٌ حَرْفٌ، وَمِيْمٌ حَرْفٌ". (جامع الترمذي، رقم الحديث 2910، قال الإمام الترمذي عن هذا الحديث بأنه: حسن صحيح غريب، وصححه الألباني). অর্থ: আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর বার্তাবহ রাসূল বিশ্বনাবী মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] হতে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর বার্তাবহ রাসূল বিশ্বনাবী মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “যে ব্যক্তি পবিত্র কুরআনের একটি অক্ষর পাঠ করবে, তাকে একটি পুণ্য প্রদান করা হবে। আর একটি পুণ্য হবে দশটি পুণ্যের সমতুল্য। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি অক্ষর। বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর”। [জামে তিরমিযী, হাদীস নং 2910, ইমাম তিরমিযী এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ (সঠিক) এবং গারীব (এক পন্থায় বর্ণিত) বলেছেন। আর আল্লামা নাসেরুদ্দিন আল্ আলবাণী হাদীসটিকে সহীহ (সঠিক) বলেছেন]।
৪। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও তার পঠনপাঠনের মজলিসে ফেরেশতা, প্রশান্তি এবং কৃপা অবতীর্ণ হয়:
৫। পবিত্র কুরআন পাঠকারীদের জন্য ও তার পঠনপাঠনকারীদের জন্য পবিত্র কুরআন সুপারিশ করবে
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قالت: قال رسول الله ﷺ: " اَلْمَاهِرُ بِالْقُرْآنِ معَ السَّفَرةِ الكِرَامِ البَرَرَةِ، وَالَّذِي يقرَأُ القُرْآنَ ويَتَتَعْتَعُ فِيْهِ وَهُو عليْهِ شَاقٌّ لَهُ أَجْرَانِ". (صحيح مسلم، جزء من رقم الحديث 244 - (798)، ). অর্থ: উম্মুল মুমিনীন আয়েশা [রাদিয়াল্লাহু আনহা] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আল্লাহর বার্তাবহ রাসূল বশ্বিনাবী মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “পবিত্র কুরআনের বিষয়ে নিপুণ বা পারদর্শী ব্যক্তি ওই সব ফেরেশতাদের সাথে থাকবে, যারা আল্লাহর বার্তাবহ অনুগত ও মর্যাদাবান। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তার জন্য তা কষ্টকর হওয়া সত্ত্বেও বারবার পাঠ করে, তার জন্য দুইটি পুণ্য বা পুরস্কার নির্ধারিত রয়েছে। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৪ - (৭৯৮) এর অংশবিশেষ]।
৭। পবিত্র কুরআনের ধারক, বাহক ও রক্ষকের উচ্চ মর্যাদা লাভ হয়।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قال رسول الله ﷺ: " يُقَالُ لِصَاحِبِ القُرآنِ: اقْرَأْ، وَارْتَقِ، وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا، فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا ". (سنن أبي داود، رقم الحديث 1464، واللفظ له، جامع الترمذي، رقم الحديث 2915 ، وقال الإمام الترمذي عن هذا الحديث بأنه: حسن صحيح، وحسنه وصححه أيضا الألباني). অর্থ: আব্দুল্লাহ বিন আমর [রাদিয়াল্লাহু আনহুমা] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আল্লাহর বার্তাবহ রাসূল বিশ্বনাবী মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “পরকালে জান্নাতে প্রবেশের সময় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতকারী বা পবিত্র কুরআনের হাফেজকে বলা হবে: اقْرَأْ، وَارْتَقِ، وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا، فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا. অর্থ: “তুমি পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করতে থাকো এবং উপরে জান্নাতের উচ্চ স্থানে উঠতে থাকো। আর তুমি ধীরে ধীরে সেইভাবে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করো, যেভাবে ধীরে ধীরে দুনিয়াতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করতে। নিশ্চয় তোমার আবাসস্থল হবে সেই স্থানে, যে স্থানে তুমি তোমার সর্বশেষ মুখস্থ আয়াত তিলাওয়াত করতে করতে থেমে যাবে”। [সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪৪৬ এবং জামে তিরমিযী, হাদীস নং ২৯১৪, তবে হাদীসের শব্দগুলি [সুনান আবু দাউদ থেকে নেওয়া হয়েছে। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান ও সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসেরুদ্দিন আল্ আলবাণীও হাদীসটিকে হাসান সহীহ (সুন্দর সঠিক) বলেছেন] ।