মডেল: বর্তমান বিভাগ
পাঠ্য বিষয় নামাজের অর্থ ও মর্যাদা
অন্য একজন ছাত্রকে গণনা করুন। এই পাঠ্য বিষয়টি সম্পূর্ণ করুন
নামাজের আসল অর্থ
নামাজ হলো সমস্ত দৈহিক উপাসনা বা ইবাদতের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো এবং গুরুত্বপূর্ণ। এটি এমন একটি উপাসনা বা ইবাদত যাতে হৃদয়, বুদ্ধি এবং জিহ্বা কাজ করে। আর নামাজের মর্যাদা ও গুরুত্ব অনেকগুলি বিষয়ের মাধ্যমে উদ্ভাসিত হয়।
২। মুসলিম জাতির মধ্যে এবং অমুসলিম জাতির মধ্যে বাহ্যিক পার্থক্যকারী ইবাদত বা উপাসনা হলো নামাজ। তাই আল্লাহর বার্তাবহ রাসূল বিশ্বনাবী মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "إِنَّ بَيْنَ الرَّجُلِ, وَبْينَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكَ الصَّلاَةِ". (صحيح مسلم، رقم الحديث 134-(82)،). অর্থ: “যে কোনো মুসলিম ব্যক্তির মধ্যে এবং আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করা ও তাঁকে প্রত্যাখ্যান করার মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ ছেড়ে দেওয়া”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৪ - ( ৮২) ]। আল্লাহর বার্তাবহ রাসূল বিশ্বনাবী মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আরো বলেছেন: "اَلْعَهْدُ الَّذِيِ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ: اَلصَّلاَةُ؛ فَمَنْ تَرَكَهَا؛ فَقَدْ كَفَرَ". (جامع الترمذي, رقم الحديث 2621, وسنن النسائي، رقم الحديث 463, وسنن ابن ماجه, رقم الحديث 1079, قال الإمام الترمذي عن هذا الحديث: بأنه حسن صحيح غريب, وصححه الألباني). অর্থ: “আমাদের মধ্যে এবং অমুসলিমদের মধ্যে যে বাহ্যিক বিষয়টির প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সে বাহ্যিক বিষয়টি হলো নামাজ। তাই যে ব্যক্তি নামাজ পরিত্যাগ করবে, সে ব্যক্তি একজন অমুসলিম হয়ে যাবে”। [জামে তিরমিযী, হাদীস নং ২৬২১, সুনান নাসায়ী, হাদীস নং ৪৬৩ এবং সুনান ইবনু মাজাহ, হাদীস নং ১০৭৯, ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান, সহীহ এবং গারীব (এক পন্থায় বর্ণিত) বলেছেন। আল্লামা নাসেরুদ্দিন আল আলবাণী হাদীসটিকে সহীহ (সঠিক) বলেছেন] ।
৩। প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা সত্য উপাস্য মহান আল্লাহ সর্বাবস্থায় মুসলিম জাতিকে নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন। সুতরাং তিনি তাদেরকে সফর অবস্থায়, আবাস অবস্থায়, শান্তির অবস্থায়, যুদ্ধের অবস্থায়, সুস্থ অবস্থায় এবং অসুস্থ অবস্থায় সদাসর্বাদা যথাসাধ্য নামাজ প্রতিষ্ঠিত করার উপদেশ প্রদান করেছেন। সুতরাং তিনি পবিত্র কুরআনের মধ্যে বলেছেন: (حَافِظُوْا عَلَى الصَّلَوَاتِ)، سورة البقرة، جزء من الآية 238. ভাবার্থের অনুবাদ: “হে মুসলিম জাতি! তোমরা যথাসময়ে সময়ে সঠিকভাবে নামাজ প্রতিষ্ঠিত করার কাজে মনোযোগী হও”। (সূরা আল বাকারা, আয়াত নং ২৩৮ এর অংশবিশেষ)। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের মধ্যে আরো বলেছেন: (وَالَّذِيْنَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُوْنَ)، سورة المؤمنون، الآية 9. ভাবার্থের অনুবাদ: “মুসলিম জাতির বৈশিষ্ট্যের অন্তর্গত বিষয় হলো এই যে, তারা তাদের নামাজ প্রতিষ্ঠিত করার কর্তব্যে সদাসর্বাদা যত্নবান থাকে”। (সূরা আল মুমিনুন, আয়াত নং ৯)।
নামাজের শ্রেষ্ঠত্ব বা ফজিলত
১। নামাজ হলো ছোটো ছোটো সমস্ত পাপ মোচনের উপাদান । আল্লাহর বার্তাবহ রাসূল বিশ্বনাবী মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "اَلصَّلَاةُ الخَمْسُ وَالْجُمُعَةُ إلى الجُمُعَةِ كفَّارَاتٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ مَا لَمْ تُغْشَ الْكَبَائرَ". (صحيح مسلم, رقم الحديث 14 - (223), ). অর্থ: “সর্বদা দিনরাতে পাঁচবারের নামাজ এবং এক শুক্রবারের জুমার নামাজ হতে আরেক শুক্রবারের জুমার নামাজ পর্যন্ত যতো নামাজ রয়েছে, সমস্ত নামাজই তাদের মধ্যবর্তী সময়ের ছোটো ছোটো সমস্ত পাপ মিটিয়ে দেওয়ার উপাদান হয়ে যায়, যদি কবিরা গুনাহ বা মহাপাপ হতে মুক্ত থাকা যায়”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪১ -( ২২৩) ]।
২। নামাজ হলো মুসলিম ব্যক্তির সারাজীবনের কল্যাণদায়ক একটি উজ্জ্বল জ্যোতি। এই নামাজ তাকে মঙ্গলের দিকে আহ্বান করে এবং অমঙ্গল থেকে তাকে রক্ষা করে ও দূরে রাখে। তাই মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের মধ্যে বলেছেন: (إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَر)، سورة العنكبوت، جزء من الآية 45. ভাবার্থের অনুবাদ: “নিশ্চয়ই নামাজ মানুষকে অশ্লীল ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখে”। (সূরা আল আনকাবূত, আয়াত নং ৪৫ এর অংশবিশেষ)। আল্লাহর বার্তাবহ রাসূল বিশ্বনাবী মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "الصَّلاةُ نُوْرٌ". (صحيح مسلم، رقم الحديث 1-(223)، ). অর্থ: “নামাজ হলো মুসলিম ব্যক্তির ইহকাল ও পরকালের কল্যাণদায়ক একটি জ্যোতি”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১ -(২২৩) ]।
নামাজ হলো প্রকৃত ইমানদার মুসলিম ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে তৃপ্তিদায়ক মুহূর্তের উপাসনা যখন সে তার প্রভুর সাথে কথা বলে; তাই সে অতি আনন্দ ও শান্তি অনুভব করে এবং প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা সত্য উপাস্য মহান আল্লাহর সাথে তার সুসম্পর্ক স্থাপিত হয়।
এবং আল্লাহর বার্তাবহ রাসূল বিশ্বনাবী মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর জন্য এই নামাজ ছিলো সর্বশ্রেষ্ঠ আনন্দের বিষয়। তাই তিনি বলেছেন: “আর আমার চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে নামাজের মধ্যে”। (নাসায়ী 3940)।
আল্লাহর বার্তাবহ রাসূল বিশ্বনাবী মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁর মুয়াজ্জিন ও নামাজের প্রতি আহ্বানকারী বিলাল [রাদিয়াল্লাহু আনহু] কে বলতেন: "يا بلال، أقم الصلاة أرحنا بها" (أبو داود 4985). অর্থ: “হে বিলাল! নামাজের জজন্য আজান এবং ইকামত দাও। এর দ্বারা আমাকে ক্লান্তি এবং ব্যস্ততা থেকে আরাম দাও”। (আবু দাউদ 4985)।
আল্লাহর বার্তাবহ রাসূল বিশ্বনাবী মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সামনে যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ অথবা বিষণ্ণতা ও ব্যস্ততা উপনীত হতো, তখন তিনি নামাজ পড়তেন। [সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং 1319]।