মডেল: বর্তমান বিভাগ
পাঠ্য বিষয় শিরোনাম: শীতকালের নামাজ এবং রোজার বিধান
অন্য একজন ছাত্রকে গণনা করুন। এই পাঠ্য বিষয়টি সম্পূর্ণ করুন
শীতকালে আবহাওয়া প্রচণ্ড ঠাণ্ডা হলে, বিবেচনা করে দেখতে হবে: প্রচণ্ড ঠাণ্ডা যদি নামাজের জন্য বের হওয়ার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তাহলে নামাজের জন্য আজান স্বাভাবিক অবস্থার দেওয়া যাবে।
শীতকালে অনেক লোক আগুন জ্বালায়। তাই সেই আগুন কোনো কোনো সময় নামাজ পড়ার সময় মুসল্লির সামনের দিকে থাকে। তাই জেনে রাখা দরকার যে, নামাজ পড়ার সময় আগুনকে সামনের দিকে না রাখাই উত্তম। যাতে মাজুসীদের সাথে মুসলিম জাতির সাদৃশ্য না হয়। আর এই কারণেও আগুনকে সামনে রেখে নামাজ পড়া ভালো নয়। কেননা মুসল্লির সামনে আগুন থাকলে সে নামাজে মনোযোগী হতে পারবে না। তবে যদি উষ্ণতার প্রয়োজন হয় বা জায়গা পরিবর্তন করতে কোনো অসুবিধা হয়, তাহলে আগুনকে সামনে রেখে নামাজ পড়লে কোনো সমস্যা নেই।
যে সমস্ত হিটারে অগ্নিশিখা নেই, সে সমস্ত হিটারকে সামনে রেখে নামাজ পড়লে কোনো সমস্যা নেই এবং মকরুহও নয়।
দুই নামাজকে একত্রিত করে পড়ার বিধান
শীতকালে দুই নামাজকে একত্রিত করে পড়ার বৈধ কারণের মধ্যে রয়েছে বৃষ্টিপাত হওয়া। কতকগুলি আলেম দুই নামাজকে একত্রিত করে পড়ার বৈধ কারণের মধ্যে রেখেছেন: প্রবল ঠাণ্ডা বাতাস, প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আবহাওয়া, তুষারপাতের কারণে পথ বন্ধ হওয়া এবং পথে কাদা থাকা ইত্যাদি।
সুতরাং দুই নামাজকে একত্রিত করে পড়ার বৈধ কারণের মূল উদ্দেশ্য হলো: আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতি বা অবস্থা উপনীত হওয়া যে, তাতে সব মানুষের জন্য বারবার জামাআতের সহিত নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে উপস্থিত হওয়া কষ্টকর বিষয় হয়ে পড়ে। তাই দুই নামাজকে একত্রিত করে পড়ার অনুমতি দেওয়া যাবে তাদেরকে। তবে হালকা বৃষ্টিতে মানুষ হাঁটার জন্য বাইরে যেতে পারে এবং তার জরুরি প্রয়োজন মেটানোর জন্য চলাফেরা করতে পারে এবং তাতে তার কোনো সমস্যা হয় না।
যে ব্যক্তি জামাআতে নামাজ পড়ে না, যেমন:- মহিলা, অসুস্থ এবং যে ব্যক্তি জামাআতের খেয়াল করে না, সে দুই নামাজকে একত্রিত করে পড়বে না। যেহেতু দুই নামাজকে একত্রিত করে পড়ার তার কোনো প্রয়োজন নেই। আর সময়মত নামাজ সমস্ত আদায় করা দরকার। আর দ্বিতীয় নামাজ পড়ার আগে নামাজ একত্রিত করে পড়ার বৈধ কারণ শেষ হয়ে গেলে দুই নামাজকে একত্রিত করে পড়া চলবে না।
মুসলিম ব্যক্তি যখন দুই নামাজকে একত্রিত করে পড়বে, তখন তার জন্য একটি আজান দেওয়া যথেষ্ট হবে। আর প্রত্যেকটি নামাজের জন্য আলাদা আলাদা করে ইকামত দিবে। এবং দুই নামাজকে একত্রিত করে পড়ে নেওয়ার পর সুন্নাতে মুআক্কাদার নামাজগুলি পড়বে তারপর নামাজের পরে পঠনীয় জিকিরগুলি পাঠ করবে।
কতকগুলি মাসজিদে দুই নামাজকে একত্রিত করে পড়ার বৈধ কারণের বিষয়ে মতভেব দেখা দেয়। তবে এই বিষয়ে ইমাম হবেন দায়ী। তাই তিনি যদি জ্ঞানবান হন আর জ্ঞানীদের সাথে পরামর্শ করেন তারপর তিনি যদি দুই নামাজকে একত্রিত করে পড়া বৈধ না মনে করেন, তাহলে তিনি দুই নামাজকে একত্রিত করে পড়বেন না। আর মাসজিদের জামাআতের লোকদের উচিত, তারা যেন বিতর্কে জড়িয়ে না পড়ে।
কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে: শীতকাল হলো প্রকৃত ইমানদার মুসলিম ব্যক্তির জন্য বসন্ত কাল। এতে তার দিন ছোটো হয়; তাই সে তাতে রোজা রাখে এবং তার রাত দীর্ঘ হয়; তাই সে তাতে উঠে নফল নামাজ পড়ে। (ইমাম বাইহাকীর সুনান কুবরা" (8456)। এবং শীতকালকে প্রকৃত ইমানদার মুসলিম ব্যক্তির জন্য বসন্ত কাল বলা হয়েছে এই জন্য যে, সে তাতে উপাসনা বা ইবাদতের উদ্যানে বিচরণ করে। যেহেতু শীতকালে সে দিনের বেলায় ক্ষুধার্ত হয় না এবং তৃষ্ণার্ত হয় না; তাই সে বিনা কষ্টে ও অতি সহজে রোজা রাখতে পারে ছোটো দিন হওয়ার কারণে। আর দীর্ঘ রাত হওয়ার কারণে সে তাতে উঠে নফল নামাজ পড়তে পারে। সুতরাং সে তাতে ঘুমানোর সুযোগ পায় এবং নফল নামাজ পড়ারও সুযোগ পায় আর এই দুইটি কাজকে সে একত্রিত করতে সক্ষম হয়।
কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে: “শীতকালে রোজা রাখা হলো মঙ্গলদায়ক সহজ সুন্দর কাজ”। এটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন (18959) । ওমার [রাদিয়াল্লাহু আনহু] বলেছেন: “শীতকাল হলো প্রকৃত ইমানদার মুসলিম উপাসকদের জন্য মঙ্গলদায়ক সহজ সুন্দর সুযোগ”। এটি আবু নাইম আল হিলিয়া গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (1/51)।